সহযোদ্ধার ভাবনাবিশ্ব 

এরশাদ, গার্ডিয়ান ও বাস্তবতা

এরশাদকে নিয়ে বৃটিশ পত্রিকা গার্ডিয়ানে লিখেছেন ডেরেক ব্রাউন। এরশাদের সময় গার্ডিয়ানের হয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তাই তার পর্যবেক্ষণ অবশ্যই গুরুত্বের দাবি রাখে। ডেরেক ব্রাউনের লেখাটার বাংলা অনুবাদ ছাপিয়েছে দৈনিক মানবজমিন। লেখার শুরুটার সাথে আমি এতটাই একমত যে, সরাসরি সেই অংশটুকুই তুলে দিলাম। ব্রাউন লিখেছেন, ‘স্বৈরাচাররা যেমনটা হয়ে থাকেন, হোসেন মুহম্মদ এরশাদ ততটা নৃশংস ছিলেন না। তার শাসনামলে বাংলাদেশ ত্রাস, কারাদণ্ড ও মৃত্যুদণ্ডের জনপদ ছিল না। তবে দেশটা ছিল এমন যেখানে সর্বত্র যেন সন্দেহ ও নৈরাশ্যের ছাপ। দুর্নীতি পৌঁছে গিয়েছিল দেশের প্রতিটি কোণায়। ভঙ্গুর রাজনৈতিক কাঠামো আরও ন্যুজ্ব…

বিস্তারিত
সহযোদ্ধার ভাবনাবিশ্ব 

উর্দিবিহীন অস্পষ্ট ‘এরশাদ’দের শাসনকর্তৃত্ব

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের দুরাবস্থা বোঝার একটা মানদণ্ড হতে পারেন ‘এরশাদ’। এরশাদের মতো একজন ভাঁড় স্বৈরাচারী শাসক একেবারে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার আগ পর্যন্ত বিভিন্নভাবে আমাদের ‘গণতান্ত্রিক’ ব্যবস্থার সাথে জড়িত ছিলেন, এই তথ্য একদিকে যেমন আমাদের গণতন্ত্রের ‘স্বৈরাচারী’ দিকটা ফুটিয়ে তুলে, তেমনি কে কীভাবে কার লেজুড়বৃত্তি করে ঠিকে থাকে তারও একটা নমুনা বটে। যে বা যারা এরশাদের পতনের জন্যে আন্দোলন করেছিলেন তারাই আবার কোনো না কোনো ভাবে এরশাদকে পাশে রেখেছেন, তা তিনি মাদার অব ডেমোক্রেসি হোন আর গণতন্ত্রের আপোষহীন নেত্রীই হোন! ‘গণতন্ত্রে’ পাশে ‘স্বৈরাচার’ কীভাবে সহাবস্থান করে, বা গণতন্ত্রের ভেতর স্বৈরাচার…

বিস্তারিত
সহযোদ্ধার ভাবনাবিশ্ব 

স্বৈরাচার, স্বৈরতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণের আকাঙ্ক্ষা

বাংলাদেশ রাষ্ট্রগঠনের আদিপাপের মীমাংসা না করেই এখানে সংবিধান প্রণীত হয়েছিল একটা পার্টির একক ইচ্ছায়। সেই আদিপাপটা হলো স্বাধীন দেশের জন্য নতুন সংবিধান সভার নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা সংবিধান প্রণয়ন ও সেই সংবিধানের পক্ষে জনতার সম্মতি আদায় না করা। ফলে একব্যক্তির হাতে সমস্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার মত একটা সংবিধান প্রণিত হয়েছিল উকিলদের মাধ্যমে এবং সেটা পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে যারা তৎকালীন পূর্ব বাংলা থেকে ‘৭০ সালে নির্বাচিত হয়েছিলেন পাকিস্তানের সংবিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে, পাকিস্তান রাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষের এলএফও’র (যার অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল পাকিস্তান হবে ‘ইসলামিক প্রজাতন্ত্র’) অধীনে ;…

বিস্তারিত
সহযোদ্ধার ভাবনাবিশ্ব 

রিকশা চালায় কারা?

বছর তিনেক আগের কথা। আমি তখন মগবাজারের বাসিন্দা। শুক্রাবাদস্থ কর্মস্থল থেকে বের হওয়ার পর সাধারণত রিকশাতেই চলাচল করতাম। একজন রিকশা চালকের অনেকটা নিয়মিত যাত্রী হয়ে উঠেছিলাম। রিকশা চালানো কঠিন কাজ হলেও খুব আনন্দ নিয়ে সেই কাজ করতে দেখতাম তাকে। চোখেমুখে কোনও গ্লানি ছিল না। চেহারায় এক খণ্ড স্বপ্নের ঝিলিক খেলা করতো। খুব মুগ্ধ হতাম তাকে দেখে।  গল্প করতে করতেই জানতে পেরেছিলাম অভাবের তাড়নায় ঢাকায় আসে সে তরুণ। রিকশা চালানোর আয় থেকে টাকা জমিয়ে এক খণ্ড জমি কিনেছিল। তৈরি করেছিল বসতভিটা। ছোট বোনের বিয়ের খরচ জুগিয়েছে। জমানো টাকা শেষ হয়ে যাওয়ায়…

বিস্তারিত
সহযোদ্ধার ভাবনাবিশ্ব 

রিকশা: আমাদের পরম্পরাগত লোকযান ও লোকশিল্প

রিকশা আমাদের পরম্পরাগত লোকযান। কেবল একটা লোকযান হিসেবেই নয় এর সাথে লোকশিল্পের একটা চমৎকার মেলবন্ধন রয়েছে। পরিবেশবান্ধব একটি যান। গাড়ি বা ইঞ্জিনচালিত যানগুলো পরিবেশের জন্য অনেক সময়ই ক্ষতিকারক হয় কিন্তু রিকশার ক্ষেত্রে এ সবের কোনও বালাই নেই।  মানুষ শারীরিকভাবে রিকশা টেনে নিয়ে যান বলে আমাদের একটা খারাপ লাগা থাকতে পারে। কিন্তু গরীর রিকশাওয়ালাদের জন্য এটি অনেক কালের একটা লোকপেশা, তাদের জীবন আর জীবিকার অন্যতম বাহন। দেশের অসংখ্য মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত আর গরীব মানুষের পথ-পারাপারের অন্যতম প্রচলিত যান এটি। এর সাথে লোকজ্ঞান আর লোকশিল্পের কালারফুল নান্দনিকতা আমাদের মুগ্ধ করে।  রিকশাশিল্পীরা বিভিন্ন ধরনের…

বিস্তারিত
সহযোদ্ধার ভাবনাবিশ্ব 

রিকশাওয়ালাদের কর্মসংস্থানের কী হবে?

কেউ কেউ বলছে, মেগাসিটিতে রিক্সা চলতে পারে না। আচ্ছা, যে শহরটায় আমরা থাকি, সেটাকে মেগাসিটি বলে? নাকি ভাগাড় বলে? তো এই ‘মেগাসিটি’র’ পানি সাপ্লাই-এ হাগুপিসুর জীবাণু ঠিক আছে? মেগাসিটির রাস্তায় রডের বদলে বাঁশ ঠিক আছে? মেগাসিটির বাতাসে ‘এক্সস্ট্রিমলি এলার্মিং’ ক্ষতিকর পার্টিকেলস ঠিক আছে? আধাঘণ্টা বৃষ্টি হলে মেগাসিটি ডুবে যাওয়া ঠিক আছে? ভুল নকশার ফ্লাইওভার ঠিক আছে? রিক্সাবিহীন মেইন রোডে ১০ মিনিটের পথ দেড় ঘণ্টায় যাওয়া ঠিক আছে? আপনি ডিসেন্ট্রালাইজ করবেন না, অগণিত কৃষককে ধানে মারবেন, ভাতে মারবেন, ঋণে মারবেন, ঢাকা শহরকে আস্তাকুঁড় বানাবেন, আপনি গণপরিবহন করবেন না, আপনি স্কুলবাস করবেন…

বিস্তারিত
সহযোদ্ধার ভাবনাবিশ্ব 

কালো একটা রঙের নাম

আমি কালো। কেউ কেউ বলেন উজ্জ্বল শ্যামলা। কেউ কেউ আদিখ্যেতা করে ‘কৃষ্ণকলি’ও বলেন।  কে কী বললো, তাতে যেমন আমার বা আপনার চামড়ার রং ওঠানামা করবে না, তেমনি হেরফের হবে না ব্যক্তিত্বেরও। তবে বিস্ময় জাগে, যখন দেখি কেউ করুণা করে ‘কালো’ শব্দটি এড়িয়ে বিভিন্ন বিশেষণে বিশেষায়িত করেন আমাকে। আমাকে সুন্দর বলতে গিয়ে কালো রঙের অস্তিত্ব এড়িয়ে অন্য কোন বিশেষণকে সামনে এনে তা বলতে চান। আচ্ছা, কারও কালো বর্ণের উপস্থিতিকে তার সৌন্দর্যের অঙ্গীভূত করে ভাবা যায় না? সুন্দররা কালো হতে পারে না? কিংবা কালো রঙ সৌন্দর্যের অংশ হতে পারে না? সৌন্দর্য আসলে…

বিস্তারিত
সহযোদ্ধার ভাবনাবিশ্ব 

ক্রসফায়ারের আইনি ভিত্তি

গত ২৬ জুন বরগুনায় দিনদুপুরে প্রকাশ্যে কয়েকজন সন্ত্রাসী রিফাত নামে এক লোককে কুপিয়ে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের  ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্যে সবাই বেশ সরব হয়ে ওঠেন। পাচ-ছয়দিনের মাথায় সংবাদ এলো যে, রিফাত হত্যাকান্ডের মূল আসামী নয়ন বন্ড ক্রসফায়ারে (বা বন্দুকযুদ্ধে) নিহত হয়েছেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে ক্রসফায়ার প্রসঙ্গে আলাপ-আলোচনা আবারো শুরু হলো। উল্লেখ করা প্রয়োজন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ শিরোনামে ২০১৮ সাল হতে ক্রসফায়ারের যে ভয়ঙ্কর তান্ডবলীলা শুরু হয়েছে এরপর থেকে, এমনকি নয়ন বন্ডের হত্যা পর্যন্তই বলা যায়, ক্রসফায়ার বিষয়ে অনেক আলাপ-আলোচনা চতুর্দিকে ঘুরপাক খাচ্ছে। বহুল প্রচলিত আলোচনাগুলোকে…

বিস্তারিত
সহযোদ্ধার ভাবনাবিশ্ব 

দৈনন্দিন (প্রথম খণ্ড)

আজকাল নতুন করে একটা বিষয় টের পেতে বাধ্য হচ্ছি, তা হলো – প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা যথেষ্ট নয় একজন মানুষকে যথাযথ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে। মানুষের ইতিহাসের সাপেক্ষে অক্ষর সভ্যতা তো এই সেদিনের ঘটনা। তার আগেও জ্ঞানজগত তো প্রবহমান ছিল। ভেবে দেখুন তো পাঠক, আমাদের মহানবী (সা.), কিংবা ভাবসাধক লালন এমনকী রবীন্দ্রনাথ-নজরুলের কথা। এদের কারোরও তেমন কোনও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না। তবে জ্ঞানধারায় তাদের অবদানের কথা অস্বীকার করার হিম্মত কি কারও আছে? ইদানিং দেখা যায় কথিত শিক্ষিতদের, মানে অক্ষরসভ্যতার অভ্যন্তরে যারা শিক্ষিত বলে বিবেচিত সেই তাদের কথা বলছি; অন্যের নাম বদনাম করতে,…

বিস্তারিত
সহযোদ্ধার ভাবনাবিশ্ব 

প্রার্থিত অনিবার্যতা

গণমাধ্যমকর্মী বাধন অধিকারী দুটো বই পাঠিয়েছেন। একটা নিজের লেখা ‘প্রেম আর প্রতিরোধ’। অন্যটা সম্পাদনা, সমসাময়িক বিষয়ে, বর্তমান বাংলাদেশ আর দেশের পরিস্থিতি নিয়ে। সম্পাদনাকৃত বইটিতে বাধন অধিকারী’র নিজের লেখাও রয়েছে। অত্যন্ত সাহসী লিখা। ‘সর্বাত্মক স্বৈরতন্ত্রে নাগরিকের জীবন’, তারই একটির শিরোনামের প্রথম অংশ এটি। এই লিখাটিতে বাধন প্রথমেই ‘নাশকতা শাসকতারই যমজ ভাই’, এমন একটি কথা উদ্ধৃত করেছেন তার এক শিক্ষক-বন্ধুর ফেসবুকের স্ট্যাটাস থেকে। আমিও এ কথাটুকুর উপরই জোর দিতে চাই। শুধু নাশকতা এবং আন্দোলন এক জিনিস নয়, এটা রাজনৈতিক দলগুলো বোঝে। আন্দোলনের কৌশলের মাঝে নাশকতা জুড়ে যেতে পারে। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে যা…

বিস্তারিত