সহযোদ্ধার ভাবনাবিশ্ব 

তবে কি মানুষ গাছ হতে চায়? ‘পাওয়ার এন্ড মানি প্ল্যান্ট’…

প্রকৌশলী ও চিকিৎসকদের একটা অংশ এবার বিসিএসে সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছেন। মুশকিল হলো যে আনুপাতিক হারে বাংলাদেশে এমন ব্যাপারটি ঘটে, তা বিশ্বের কোথাও ঘটে না। অর্থাৎ বিশ্বের কোথাও প্রকৌশলী বা চিকিৎসকরা সাধারণত পেশা বদল করতে চান না। এই দেশে কেনো চান, সেই কথা বলি। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলি। পুলিশের একজন কর্মকর্তা গেছেন একজন চিকিৎসকের কাছে। চিকিৎসক পদবীতে একজন সহযোগি অধ্যাপক। অবস্থানে বেচারি চিকিৎসক সেই পুলিশ কর্মকর্তার থেকে এগিয়ে থাকলেও, সব রোগীদের বাদ দিয়ে সেই পুলিশ কর্মকর্তাকে আগে দেখতে হয়েছে তাকে। সাথে চা-বিস্কুট দিয়েও সমাদর করতে হয়েছে। কারণ অবস্থানে এগিয়ে থাকলেও…

বিস্তারিত
সহযোদ্ধার ভাবনাবিশ্ব 

বাচ্চাদের পণ্ডিত বানানোর দরকার নেই, মানুষ বানান

আমার ছোট ছেলে খুব চিন্তিত। সদ্য এসএসসি পেরুলো সে। ওর অনেক বন্ধুরা অনলাইনে প্রাইভেট পড়া শুরু করেছে। একটি কোচিং সেন্টারের নাম জানিয়ে বললো, সেখানে ওর অনেক বন্ধুরাই ভর্তি হয়ে গেছে। কোচিং ফি ১৪ হাজার টাকা। আচ্ছা আমাকে একটু বুঝিয়ে বলবেন কেউ, এই অনলাইন ক্লাশ, কোচিংয়ের ফায়দাটা কী? আপনারা ক্রম-বিস্মৃত হয়েছেন, বাংলাদেশের ৮০ ভাগের উপর বাচ্চারা গ্রামের। তারা গ্রামের স্কুলে পড়ে। তাদের কাছে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম রীতিমত ফ্যান্টাসি। যারা নাকি সুরে বলেন, ‘না না আমাদের অনেক উন্নতি হয়েছে এখন সবার হাতে হাতে স্মার্ট ফোন। আমরা সবাই মধ্যম টাইপ বড়লোক।’ এনাদের জন্য…

বিস্তারিত
সহযোদ্ধার ভাবনাবিশ্ব 

সব গাছ ছাড়িয়ে এক পায়ে দাঁড়ানো তালগাছ আমরা

প্রায় দেড়শ কোটির দেশ চীন। করোনা ভাইরাসের আতুরঘর। সেখানের চেয়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যায় আমরা এগিয়ে গেছি সতেরো কোটির দেশ হয়ে। আর কিছুতে না হোক এই সংখ্যায় তো অতিক্রম করেছি, এটাই বা কম কিসে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত। জনসংখ্যা একশ বিশ কোটি ছাড়িয়ে। আক্রান্তের গড় তুলনায় আমরা এগিয়ে। আক্রান্তের সংখ্যায় সবচেয়ে এগিয়ে অ্যামেরিকা। যে হারে এগুচ্ছি সেটাকেও ধরে ফেলবো সম্ভবত। করোনাতে এগুনোর হারের সাথে আরেকটা জায়গায় আমাদের মিল রয়েছে। সেটা বিশ্বে দ্রুত ধনী হওয়া মানুষের হারটিতে। গবেষণা সংস্থা ‘ওয়েল এক্স’ এর পরিসংখ্যানে আমাদের কিছু লোক বিশ্বের ধনী হওয়ার দৌড়ে প্রথম হয়েছে।…

বিস্তারিত
সহযোদ্ধার ভাবনাবিশ্ব 

গণপরিবহন, স্বাস্থ্যবিধি, নগর পরিকল্পনা ও অহেতুক তত্ত্বের বাহাস

কিছু সোজা কথা আমরা বুঝি না। উদাহরণ দিই। এই যে ক’দিন ধরে অনেকে চিলাচ্ছেন, গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। লোকজন স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে বাসে চড়ছেন। ইত্যাদি ইত্যাদি। এসব কথার সাকুল্যে কোন অর্থ নেই। নেই এ জন্যে যে, আপনি নগর পরিকল্পনা করতে পারেননি। ঢাকা একটি নগর হিসাবে গড়ে উঠেনি এবং দেশের কোন নগরই পরিকল্পিত হয়নি। না, আমি তত্ত্বকথা ঝাড়তে বসিনি। ও কাজ অন্যদের। তারা তত্ত্ব কথা এমন ভাবে ঝাড়েন যে সাধারণের মগজ তা নিতে পারে না। আর যারা ঝাড়েন তারাও সাধারণ মানে আমজনতাকে ধর্তব্যে নেন না। ফলে একটা গ্যাপ থেকে…

বিস্তারিত
সহযোদ্ধার ভাবনাবিশ্ব 

অথচ চাইলেই স্কলারশিপ নিয়ে দেশ ছাড়তে পারত ফাগুন

তরুণ সাংবাদিক ইহসান ইবনে রেজা ফাগুনের রহস্যজনক মৃত্যুর এক বছর পার হয়ে গেল। আমরাও ধীরে ধীরে ভুলতে বসেছি ফাগুনকে। ব্যস্ততা, কাজ, একের পর এক নতুন ঘটনার মোড়কে অনেকটা আড়ালেই চলে গেল ২১ মে ফাগুন রেজার মরদেহ উদ্ধারের দিনটি। দীর্ঘ এক বছর ফাগুন রেজার মৃত্যু রহস্যের কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গত বছরের এই দিনে ফাগুন ঢাকা থেকে বাড়ি যাওয়ার পর নিখোঁজ হয়, পরে তার মরদেহ পাওয়া যায় জামালপুরে। মাঝখানে একটি বছর চলে গেল, ফাগুনের খুনের বিষয়ে কিছুই জানা গেল না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা বলছেন, তারা চেষ্টা…

বিস্তারিত
সহযোদ্ধার ভাবনাবিশ্ব 

এই দুর্যোগের কালে অন্যকে ট্রল করার আগে আয়নায় নিজেকে দেখে নিন

সামাজিকমাধ্যমে হৈচৈ বেধে গিয়েছে ঈদের মার্কেট নিয়ে। রীতিমত আহাজারি গেলো গেলো বলে। এমনটা না হলেই তারা যেনো বেঁচে যেতেন করোনার কবল থেকে। অক্ষম মধ্যবিত্তদের আর্তনাদে ভারী হয়ে গেছে ভার্চ্যুয়াল আকাশ। মানুষজনের বাড়ি ফেরা আর কেনাকাটার ভিড় তাদের এই আর্তনাদের উৎস। হ্যাঁ উৎস, কারণ নয়। কারণ হলে তারা মানুষকে দায়ি না করে সিস্টেমকে করতেন। তাদের হাহুতাশ ঘরে থেকেই। আপাতত নিরাপদে থেকেই। যেহেতু তাদের ঘরে আরো কয়েকদিনের খাবার রয়েছে, চলার সঙ্গতি রয়েছে। বাইরে যাবার প্রয়োজন এখনো হয়নি। তাই রসদ ফুরানোর আগ পর্যন্ত তারা এমন আর্তনাদ করেই যাবেন। অবশেষে যখন রসদ ফুরাবে তখন…

বিস্তারিত
সহযোদ্ধার ভাবনাবিশ্ব 

প্রত্যাশিত এক ব্রিফিং কাভারের অপেক্ষায়…

জানুয়ারির ১১ কিংবা ১২ তারিখের কথা। সকাল ১১টার দিকে আমার কর্মস্থল বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর সম্পাদক ইনাম আহমেদ আমাকে টেলিফোনে বলেন, চীনে একটা নতুন ভাইরাসের দেখা মিলেছে, অনেক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। বাংলাদেশে ওই ভাইরাস মোকাবিলার প্রস্তুতি কেমন, তা নিয়ে খোঁজখবর করতে বলেন তিনি। বিষয়টা একেবারে নতুন আমার কাছে। ফোন রেখে বিবিসি ওয়ার্ল্ডে করোনা ভাইরাস নিয়ে একটি প্রতিবেদন পড়ি।  দুপুরে অফিসে গিয়ে ফোন করি আইইডিসিআর-এর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এএসএম আলমগীরকে। তিনি বিষয়টি তার মত করে বুঝিয়ে বলেন আমাকে। জানান, চীনের একটি সামুদ্রিক খাদ্য-বাজার থেকে একটা ভাইরাস ছড়িয়েছে। তবে সে ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে…

বিস্তারিত
সহযোদ্ধার ভাবনাবিশ্ব 

বাংলাদেশ রাষ্ট্র, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও জনগণের বিরুদ্ধে অনন্ত ‘যুদ্ধ’

সারা দুনিয়া যেখানে করোনা মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে, করোনার বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করছে, সেখানে বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও সরকার যেন তার জনগণের বিরুদ্ধেই অঘোষিত এক ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছে। দুই উপায়ে এই ‘যুদ্ধের’ বাস্তবতা উৎপাদন করা হচ্ছে। একদিকে, নজিরবিহীন বিপদজনক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও পদ্ধতিগত সিদ্ধান্তহীনতার মাধ্যমে জনগণের একটা বড়ো অংশের জীবনকে হুমকির মধ্যে ফেলে দেয়া হচ্ছে, অন্যদিকে যারা এমনতর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন এবং ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিচ্ছেন রাষ্ট্র বিভিন্ন আইনী মারপ্যাঁচের মাধ্যমে তাদের নাগরিক অধিকার হরণ করা শুরু করেছে। তাদেরকে তুলে নিয়ে যাওয়া-দীর্ঘদিন ‘নিখোঁজ’ থাকার পর গ্রেফতার দেখানো-মামলা দায়ের করা সহ নানাবিধ হয়রানি ও…

বিস্তারিত
সহযোদ্ধার ভাবনাবিশ্ব 

সাংবা‌দিক-বু‌দ্ধিজীবিদেরও শু‌দ্ধি দরকার

শুধু সাংবাদিকতার নাম করে আমারই স্ব-পেশার কিছু অগ্রজ ঢাকা শহরে অনেক কিছুর মালিক হয়েছেন। তাদের এখন আর সাংবাদিকতার বেতনের টাকায় জীবন যাপন করতে হয় না। এরা প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের প্রশ্নোত্তরের সুযোগে বন্দনার বাণী পাঠ করেন। সমস্ত লজ্জার মাথা খেয়ে নৈতিকতার মুখে ছাঁই দিয়ে ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য নির্লজ্জ দালালি করেন। দালালির আয়ে অর্জিত সুবিধার বলে সাংবাদিক রাজনীতিবিদের মতো আচরণ করেন। বুদ্ধিজীবী সুবিধা বাগাতে আচরণ করেন বুদ্ধি প্রতিবন্দির মতো। জনগণকে করেন বিভ্রান্ত। সম্প্রতি বাংলাদেশে অবৈধভাবে পরিচালিত ক্যাসিনোয় অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। এসব ক্যাসিনোর জুয়ার টাকার ভাগ পাওয়া সাংবাদিকদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল ও…

বিস্তারিত
সহযোদ্ধার ভাবনাবিশ্ব 

হাজারের জিনিস বিকায় লাখে, মাছ কি আর লুকায় শাকে

আজকাল বড় ক্লান্ত লাগে। কত আর লিখি। বালিশের দাম সাত হাজার লিখে বিস্ময়বোধক চিহ্ন দিতেই পর্দার দাম হয়ে যায় সাইত্রিশ লাখ। টিন বিকায় রূপার দামে। একপাতা টিনের দাম একলাখ। রূপা নয় তো কি? কোন সে মন্ত্রে টিনও রূপা বনে যায়। তেল আর ঘিয়ের অনুপাত হাতে হাত রেখে দাঁড়ায়। হামেশার এই অনুপাত আর কত ধরে লেখায়! প্রতিদিন অংকের ক্লাশ, সংখ্যা বাড়ে দুর্নীতির বিদ্যালয়ে। আমরা জানি এমন বিদ্যালয়ের শিক্ষক কারা। তবুও মানুষ রামগরুড়ের ছানা, বলতে তাদের মানা।  দুর্নীতির সংজ্ঞাও ক্রমে পরিবর্তিত হচ্ছে। দুর্নীতি মানেই লুকিয়ে-চুরিয়ে কিছু করা, এমনটাই ছিলো এক সময়। এখন…

বিস্তারিত