সহযোদ্ধার ভাবনাবিশ্ব 

আপন কাহন

`Close your eyes and try to see’ গানের এই কলি শুনেই হুমায়ূন আহমেদে’র মাথায় এসেছিলো মিসির আলি চরিত্রটি। যিনি দেখার চেষ্টা করেন চোখ বন্ধ করে। এটা হুমায়ূন আহমেদে’রই ভাষ্য। বলেছেন, ‘মিসির আলির কথা’ বলতে গিয়ে। আমিও নিজেও আমার কথা বলতে গিয়ে কেনো যেনো হুমায়ূন আহমেদকে টেনে আনি। হয়তো নিজের অক্ষমতার জন্যই তার উপর ভর করা। তার মতো করে বলতে না পারার জন্যই তাকে টেনে আনা। চোখ বন্ধ করে দেখার বিষয়ে আমার একটি কবিতা রয়েছে। মূলত বস্তবাদকে খোঁচা মেরে লেখা। যার প্রথম লাইন ছিলো, ‘চোখের বাইরে নেই কোনো অচিন নগর’। আসলেই…

বিস্তারিত
সহযোদ্ধার ভাবনাবিশ্ব 

সাংবা‌দিক-বু‌দ্ধিজীবিদেরও শু‌দ্ধি দরকার

শুধু সাংবাদিকতার নাম করে আমারই স্ব-পেশার কিছু অগ্রজ ঢাকা শহরে অনেক কিছুর মালিক হয়েছেন। তাদের এখন আর সাংবাদিকতার বেতনের টাকায় জীবন যাপন করতে হয় না। এরা প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের প্রশ্নোত্তরের সুযোগে বন্দনার বাণী পাঠ করেন। সমস্ত লজ্জার মাথা খেয়ে নৈতিকতার মুখে ছাঁই দিয়ে ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য নির্লজ্জ দালালি করেন। দালালির আয়ে অর্জিত সুবিধার বলে সাংবাদিক রাজনীতিবিদের মতো আচরণ করেন। বুদ্ধিজীবী সুবিধা বাগাতে আচরণ করেন বুদ্ধি প্রতিবন্দির মতো। জনগণকে করেন বিভ্রান্ত। সম্প্রতি বাংলাদেশে অবৈধভাবে পরিচালিত ক্যাসিনোয় অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। এসব ক্যাসিনোর জুয়ার টাকার ভাগ পাওয়া সাংবাদিকদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল ও…

বিস্তারিত
সহযোদ্ধার ভাবনাবিশ্ব 

হাজারের জিনিস বিকায় লাখে, মাছ কি আর লুকায় শাকে

আজকাল বড় ক্লান্ত লাগে। কত আর লিখি। বালিশের দাম সাত হাজার লিখে বিস্ময়বোধক চিহ্ন দিতেই পর্দার দাম হয়ে যায় সাইত্রিশ লাখ। টিন বিকায় রূপার দামে। একপাতা টিনের দাম একলাখ। রূপা নয় তো কি? কোন সে মন্ত্রে টিনও রূপা বনে যায়। তেল আর ঘিয়ের অনুপাত হাতে হাত রেখে দাঁড়ায়। হামেশার এই অনুপাত আর কত ধরে লেখায়! প্রতিদিন অংকের ক্লাশ, সংখ্যা বাড়ে দুর্নীতির বিদ্যালয়ে। আমরা জানি এমন বিদ্যালয়ের শিক্ষক কারা। তবুও মানুষ রামগরুড়ের ছানা, বলতে তাদের মানা।  দুর্নীতির সংজ্ঞাও ক্রমে পরিবর্তিত হচ্ছে। দুর্নীতি মানেই লুকিয়ে-চুরিয়ে কিছু করা, এমনটাই ছিলো এক সময়। এখন…

বিস্তারিত
সহযোদ্ধার ভাবনাবিশ্ব 

যেহেতু বাঙ্গালিকে ঘুঁটনি দিয়ে ঘুঁটে চামচে করে খাইয়ে দিতে হয়, সেহেতু…

প্রথমত একটি প্রবন্ধ বা কলাম, একজন লেখকের ব্যক্তিগত বয়ান না, শিল্পও না, প্রবন্ধ যৌক্তিক বিশ্লেষণ ও সামাজিক রাজনৈতিক সচেতনতা দাবী করে। নারীর একটি বিশেষ পোশাক কিভাবে নারীদেহকে তুলে ধরে সেটা প্রবন্ধের বিষয় হিসেবে শুরুতেই যৌনবাদী বা সেক্সিস্ট। কেননা লিঙ্গীয় রাজনীতির বিশ্লেষণ বহু আগে থেকেই দেখাচ্ছে যে নারীদেহ নিয়ে পুরুষের এরকম বয়ান নারীকে পুরুষের যৌনবাসনার বস্তুতে সীমিত করে রাখে। তিনিও দ্বিধাহীনভাবে তাই করেছেন। লিঙ্গরাজনীতি নিয়ে প্রায় এক শতাব্দীর এতো সমালোচনা সত্ত্বেও সবকিছুকে উপেক্ষা করে তাঁর মত একজন বইপড়া, আলোকিত মানুষ সৃষ্টির আন্দোলনের মানুষ সম্পূর্ণ অজ্ঞ থেকে, যদি নারীশরীর নিয়ে ভীষণরকম যৌনগন্ধী…

বিস্তারিত
সহযোদ্ধার ভাবনাবিশ্ব 

নারী, শাড়ি ও প্রবল পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি

নারীকে দেখার বিদ্যমান পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গীরই চরম প্রতিফলন ঘটেছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের আলোচিত-সমালোচিত ‘শাড়ি’ নামক ফিচারটিতে! এটি পড়তে গিয়ে নারী হিসেবে অস্বস্তি বোধ করেন নাই এমন নারী হয়তোবা কমই পাওয়া যাবে! লেখাটি কেবল যৌনগন্ধী নয় এতে বর্ণবাদ-বিদ্বেষও সুচারুরূপে হাজির হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে নিজের বিভাগের একজন সিনিয়র নারী অধ্যাপককেই কেবল পেয়েছি যিনি লেখাটিতে অস্বস্তিকর কিছুই পান নাই! তাছাড়া জানা মতে, বেশির ভাগ নারীরাই এমনকি কিছু পুরুষও এ নিয়ে অখুশি। তারা ওই লেখায় অস্বস্তিকর উপাদান পেয়েছেন! সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারীরা লেখাটি নিয়ে তাদের সঙ্গত-অসঙ্গত সমালোচনা হাজির করছেন যার যার অস্বস্তি থেকেই৷ আমি নিজেও খুব…

বিস্তারিত
সহযোদ্ধার ভাবনাবিশ্ব 

শাড়ি, শরীর ও নারী

ঋতুপর্ণ সেনগুপ্তের সবশেষ সিনেমা ’চিত্রাঙ্গদা’র একটা জায়গায় ছিল না: মননে পূর্ণ নারী কিন্তু শারীরিক গঠনে পুরুষ ঋতুপর্ণ ওর প্রেমিকের ভালো লাগবে বলে শরীরে সার্জারী করিয়ে নারীর শরীর পেতে প্রয়াশ পায়? খুব নাড়া খেয়েছিলাম! সিনেমাটা দেখে মনে হচ্ছিল আমি ওর কষ্টটুকু বুঝতে পারছি, ওর জুতোয় পা রেখে অনুভব করতে পারছি না। শরীর খুব গুরুত্বপূর্ণ, এ উপলব্ধি আমার নতুনতর। খুব আলাভোলা প্লেটোনিক প্রেমটাই মুখ্য বলে ভাবা একটা কালও গেছে আমার (নাদান বাচ্চা পোলাপাইন)। শরীর খুব পারস্পারিকও বটে। প্রেমিকযুগলের একে অন্যের মুগ্ধ দৃষ্টির দেখার আকাঙ্ক্ষাটাও পারস্পারিক। সেই নিমিত্তে শরীরের খাঁজ-ভাজ প্রদর্শনপূর্বক পোশাক পরিধান…

বিস্তারিত
সহযোদ্ধার ভাবনাবিশ্ব 

শিশুপাঠ্যে বিদ্বেষের বীজ

চিত্রকলা, তথা ছবির একটা মজার দিক হচ্ছে – এটা এমন একটা মাধ্যম যা সহজেই আমাদের মস্তিষ্কের স্থান দখলে সক্ষম। কোনও কিছু লিখে বা পড়ে আপনি যত সহজে তা স্মৃতিতে রাখবেন, একটা ছবি দিয়ে আপনি আরও সহজে তা করতে পারেন যা কিনা দীর্ঘস্থায়ী’ও বটে। আর সেই ছবি যদি হয় রঙিন, তাহলে তো কথাই নেই। এ কারণেই ছোটদের বই সবসময় অনেক রঙিন হয়। অক্ষর পরিচিতির জন্য বর্ণমালার বই থেকে শুরু করে, ছড়া, কবিতা, এমনকী গল্পের বইগুলো অনেক বেশি রঙিন করা হয়। এতে বাচ্চাদের মনসংযোগ সহজ হয়। স্কুল বা প্রি-স্কুলে যাওয়ার আগে থেকেই…

বিস্তারিত
সহযোদ্ধার ভাবনাবিশ্ব 

চামড়া কি খাওয়া যায়, নাকি পুঁতে ফেলাই বিপ্লব?

চামড়া বিষয়ে একদল বলছেন, দাম যখন পাওয়া যাচ্ছে না, তখন প্রতিবাদ স্বরূপ মাটিতে পুঁতে ফেলুন। আরেকদল বলছেন, চামড়া খাওয়া যায়। তারা শিখাচ্ছেন চামড়া খাওয়ার প্রক্রিয়া। একদল বুদ্ধিজীবী রয়েছেন, তারা মুখ গম্ভীর করে জানান দিচ্ছেন, চামড়া রাষ্ট্রীয় সম্পদ তা পুঁতে ফেলা বা নষ্ট করা উচিত নয়। ইত্যাদিসব নছিহত শুনতে শুনতে জান অস্থির। মনে হচ্ছে, যে জাতি সমস্যার স্বরূপ চিনতে ব্যর্থ হয়। প্রতিবাদের গতি-প্রকৃতি নির্ধারণ করতে পারে না। নিজেদের বেঁচে থাকার স্বার্থে এক হতে পারে না। সম্মিলিত চিন্তা করতে পারে না। তাদের দিয়ে কী হবে! পোকারাও এক সাথে শব্দ তোলে, শেয়ালেরাও হুক্কাহুয়া।…

বিস্তারিত
সহযোদ্ধার ভাবনাবিশ্ব 

‘ঘরের ধান বস্তার মধ্যে পচিচ্চে, বানের পানি খাইয়া বাচিচ্চি’

অচেনা জেলা গাইবান্ধা। অচেনা এই অর্থে এর আগে কখনও যাওয়া হয়নি। পথ-ঘাট কিছুই চিনি না। অথচ সেখানে দুর্গত মানুষের নিউজ আমাকে কাভার করতে হবে। ২২ জুলাই। সকালে প্রথম আলো বন্ধুসভা গাইবান্ধার সহসভাপতি হারেজ উদ্দিনকে সঙ্গে নিলাম। তাঁর কাছে জানতে চাইলাম, এবার কোনো এলাকা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। হারেজ জানালেন, গাইবান্ধার ফুলছড়ি। জেলা প্রশাসকের তথ্যেও তাই। এই উপজেলার সাতটি ইউনিয় পানি নিচে। শহরের পুরাতন বাজার থেকে অটোরিকশায় শুরু হলো সকালের পথ। সদর থেকে তিন থেকে চার কিলোমিটার ৫ পূর্ব দিকেই ফুলছড়ির সীমানা। যাত্রা ফুলছড়ির উদাখালী ইউনিয়নে। সদর থেকে সাত কিলোমিটার দূরে উপজেলার উদাখালি…

বিস্তারিত
সহযোদ্ধার ভাবনাবিশ্ব 

ভেঙে পড়া সমাজ-অর্থনীতি এবং ছিঁড়ে যাওয়া চেইন

এক.  কী নিয়ে লিখি। লিখলাম তো কম না। গুজব থেকে মব জাস্টিস, ডেঙ্গু থেকে শেয়ার বাজার সাথে বন্যা; চলমান কোন কিছুই তো বাদ যায়নি। গুরুত্ব হিসাবেও তুলনা করে দেখেছি, কোনটারই গুরুত্ব কম না। কোনো বিষয়ের অর্থনৈতিক গুরুত্ব প্রবল, কোনোটার সামাজিক। অর্থনীতি ভেঙে পড়লে সমাজ বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে, আবার সামাজিক শৃঙ্খলা ভেঙে গেলে অর্থনীতি শৃঙ্খলা হারায়। শৃঙ্খলার ব্যাপারটিই আসলে শেকলবদ্ধ। এই শেকলের দুটি মুখ হলো অর্থনৈতিক ও সামাজিক শৃংখলা। আর দুই মুখের বৃত্তাকার অংশের জোড়াটা হলো গণতন্ত্র। যেটা না থাকলে ‘চেইন’টা সম্পূর্ণ হয় না। শেকলটা বৃত্তাকার হয় না।   নির্দিষ্ট কক্ষপথ ও…

বিস্তারিত