দিনলিপি 

ফাগুন চলে যাবার আট মাস : প্রতীক্ষা ন্যায়ের, ন্যায্যতার

এক. ফাগুন চলে গেছে আট মাস হয়ে গেলো। অনেকটাই দীর্ঘ সময়, অনেকে হয়তো ভুলে যেতেই বসেছেন। তাদের মনে করিয়ে দেয়ার জন্য মূলত এই লেখা নয়। এটা নিজের বুকের ভার কমানোর অযথা চেষ্টা বলতে পারেন। একজন ন্যায়বিচার বঞ্চিত পিতার আত্মকথন। জানি, আমি ছাড়াও বিচার বঞ্চিত আরো পিতা রয়েছেন। রয়েছেন মা, ভাই,বোন আর স্ত্রী। যারা প্রতিদিন জায়নামাজে বসে আল্লাহ’র কাছে বিচার সপে দিচ্ছেন। চোখের পানিতে ঝরছে তাদের জাগতিক ব্যর্থতার ফরিয়াদ। ফাগুন, মানে ইহসান ইবনে রেজা, ফাগুন রেজা। একজন মেধাবী, সৎ ও প্রতিশ্রুতিশীল গণমাধ্যমকর্মী। যাকে আজ ‘পাস্ট টেন্সে’ লিখতে হয়। ফাগুন আজ অতীত।…

বিস্তারিত
দিনলিপি 

শরিয়ত সরকার এবং সিলেক্টিভ জাস্টিস

শরিয়ত সরকার নামে একজন বাউলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে অনেকেরই আক্ষেপ দেখলাম। তার মুক্তি চাইতে দেখলাম। দু’একজন ছাড়া কাউকেই আলোচনা করতে দেখলাম না, কোন আইনে সেই বাউলকে গ্রেপ্তার করা হলো। বাউলকে গ্রেপ্তারের অজুহাতটা কাজে লাগানো হলো কীভাবে। আপনি এক শরিয়ত সরকারের মুক্তি চাইছেন, তার বিষয়টি গণ ও সামাজিকমাধ্যমে ক্লিক করেছে বলে। এক শরিয়ত সরকারের বিপরীতে এমন অনেক ঘটনাই রয়েছে যা গণ বা সামাজিকমাধ্যমে ক্লিক করে না। তাদের বেলায় কী হবে? তাদের জন্য কি মুক্তির দাবি তুলবেন আপনারা? না, তুলবেন না। না জানলে তুলবেন কিভাবে। অর্থাৎ যা জানা তাই সিলেক্টেড।…

বিস্তারিত
দিনলিপি 

বছরপারের কথকতা

কিছু কিছু মানুষের ‘হিউমার’ শেষ হবার নয়। তারা যন্ত্রণার মধ্যেও আনন্দ খুঁজে পান, শোকের মধ্যেও সুখ। মৃত্যুদিনে মৃতের ছবির সাথে হাসিমুখের সেলফি দর্শন সামাজিকমাধ্যম আমাদের অভ্যস্ত করে তুলেছে। শোক ভুলে আনন্দে ভাসার আহ্বান তাই বছর শেষে ঘুরেফিরে পাচ্ছি এবং পাচ্ছেন। ব্যক্তিগত ভাবে ২০১৯ এর মত ভয়ংকর বছর আমার জীবনে আর নেই। একজন পিতা যখন তার পুত্র হারান সেই পিতার চেয়ে নিঃস্ব, যন্ত্রণাকাতর আর কেউ হতে পারে না। আমি তেমনি একজন। তাই আমার ব্যক্তিগত কারণে সবাইকে দুঃখী হতে বলছি না। তবে সদ্য বিগত সনটি সার্বিকভাবে কার জন্যে ভালো গেছে সেটাই জানতে…

বিস্তারিত
দিনলিপি 

প্রকাশিতব্য বই: নয়া তথ্য প্রযুক্তি, সংবাদ-বাস্তবতা ও বুদ্ধিবৃত্তি

এক আকস্মিক রাজশাহী ভ্রমণ, একটুখানি আলোর খোঁজে মামুন ভাইয়ের চেম্বারে যাওয়া, আড্ডার এক পর্যায়ে পাওয়া প্রস্তাব, আর বারংবার সময় নিয়ে তালগোল পাকিয়ে ম্যাজিক লণ্ঠনে লিখতে না পারার অতীত স্মৃতি অতিক্রমের আত্ম-অঙ্গীকারের সম্মিলন এই প্রকাশিতব্য বই। প্রচ্ছদ করেছেন আইয়ুব আল আমিন, ভূমিকা লিখেছেন শফিকুল ইসলাম, লেখাগুলো গুছিয়ে দিয়েছেন জাহিদুল ইসলাম জন, আর নাটোর থেকে সোজা ঢাকা না ফিরে রাজশাহী যাওয়ার প্ররোচনা দিয়েছিলেন রাকিব সোহান। এই যুগেও ৬০ টাকায় যারা পাঠকের হাতে বই তুলে দেওয়ার সাহস করেন, তাদের প্রতি আমার নতজানু শুকরিয়া। বইয়ের প্রবন্ধ সূচি

বিস্তারিত
দিনলিপি 

ফাগুন চলে যাবার ছয় মাস, বেঁচে আছি, বেঁচে থাকতে হয় বলে

শুভ্রের রূপালী দ্বীপে যাওয়া নিয়ে রাহেলা বেগমের অস্থিরতাকে অনেকেই পাগলামো ভেবে বসেন। শুভ্র বাড়ি থেকে বেরুনোর তিন ঘন্টার মধ্যেই প্রেশার বেড়ে মাথা ঘুরে গিয়েছে রাহেলা বেগমের। ব্লাড প্রেশারের অষুধ খেয়েছেন কিনা মনে করতে পারছেন না। ট্রেনে উঠার সময় শুভ্রের চোখে চশমা ছিলো না শুনে দোতলার সিঁড়ি ভেঙে উপরে উঠতেই তার দম আটকে আসতে লাগলো। যাদের সন্তান অথবা বোধ দুটোর কোনটাই নেই তাদের এমনটা পাগলামো মনে হতে পারে। কিন্তু এটা নির্ভেজাল সত্যি। হুমায়ূন আহমেদ এতটুকুও মিথ্যে লিখেননি। তিনি তার নিজের সন্তান স্নেহ আর জীবনবোধ থেকেই লিখেছেন শুভ্রের ‘রূপালী দ্বীপ’।   তবে…

বিস্তারিত
দিনলিপি 

১৬ কোটি মানুষের আবেগ কি স্রেফ জুয়ার ঘুটি ?

সকালে ঘুম থেকে জেগে সেলফোনে ফেসবুক খুলেই চোখে পড়লো দিনের সবথেকে আলোচিত সংবাদের শেয়ারকৃত লিঙ্ক। সমকালের ব্রেকিং রিপোর্টের শিরোনাম:  ‘দেড় বছরের জন্য নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছেন সাকিব’। সঙ্গে লালরঙা উপশিরোনাম: ‘জুয়াড়িদের প্রস্তাব গোপন রাখার অভিযোগ আইসিসিতে প্রমাণিত’। প্রতিবেদনের ভাষ্য: বাজিকরের কাছে প্রস্তাব পেয়ে সঙ্গেসঙ্গেই তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বাংলাদেশের সবথেকে সফল ওই ক্রিকেটার। আমার তাই সমকালের ট্রিটমেন্ট নিয়ে খানিকটা আপত্তি তৈরি হলো। মনে হলো, একটা ভুল করেছে সাকিব, নিয়ম মেনে আইসিসিকে প্রস্তাবের বিষয়ে জানায়নি। ওরতো কোনও অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না। তাহলে কেন তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি শিরোনামে হাইলাইট করা হলো না। এই…

বিস্তারিত
দিনলিপি 

ফাগুন চলে যাবার চার মাস, শোক আর প্রত্যয়ের দিন

এক. আমাদের প্রতিটা দিন যায় কর গুনে। আমাদের প্রতিটা নিঃশ্বাস পরিণত হয় দীর্ঘশ্বাসে। সন্তানহারা পিতা-মাতার এমনটাই হওয়ার কথা। ইহসান ইবনে রেজা ফাগুন, ফাগুন রেজা, সন্তান হিসাবে আমাদের ছিলো কিন্তু সম্পদ হিসাবে ছিলো দেশের। ওর মতো মেধাবি ও সৎ একজন গণমাধ্যমকর্মীর চলে যাওয়াটা আমাদের চেয়ে দেশের জন্য বেশি ক্ষতিকর। ওকে রক্ষা করতে না পারার ব্যর্থতা রাষ্ট্রযন্ত্রের। জিনিয়া নামের গণমাধ্যমকর্মী মেয়েটিকে উপাচার্য নামের ‘আশ্চর্য’ মানুষটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দিলেন। বললেন, সে বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে। এটাই হয়, জিনিয়ারা যখন হাটে কারো হাঁড়ি ভাঙার চেষ্টা করেন, তখন সেই চেষ্টার বিপরীতে আবিষ্কার হয়…

বিস্তারিত
দিনলিপি 

ভাষিক সহিংসতা এবং নারীর দৈনন্দিন বাস্তব

‘ক্ষমতা মিডিয়া আর মানুষ’ নামে শ্রাবণ প্রকাশন থেকে ২০১২ সালে প্রকাশিত আমার বইতে নারীর উপর ভাষিক সহিংসতা: প্রান্তে তার পাল্টা ভাষা শিরোনামে একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিলো। সেই প্রবন্ধের একটা সংক্ষিপ্ত রূপ দিনলিপির পাঠকের সামনে হাজির করা হলো ঠিক তখন; যখন বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদের শাড়ি সংক্রান্ত একটি লেখাকে ঘিরে ইন্টারনেট দুনিয়ার বাসিন্দাদের একাংশের মধ্যে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিরাজমান এই বাস্তবতার সঙ্গে এই লেখাটা মিলিয়ে পড়ার সুযোগ আছে; এমন ভাবনা থেকে এই পুনঃপ্রকাশ। পটভূমি ভাষাকে কেন্দ্র বিবেচনা করে, এর সাথে ভাবনা-প্রতীক-অর্থ-ক্ষমতা-জ্ঞান-আধিপত্যের সম্পর্কসূত্রকে মিলিয়ে পড়তে গিয়ে, এই লেখার…

বিস্তারিত
কথোপকথন দিনলিপি 

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে ডা. আশিকুর রহমান রনক

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে ঈদুল আজহার সময় ঢাকার বাইরের প্রস্তুতি কেমন ছিল, তা জানতে আমরা কথা বলেছি বাগেরহাট জেলার এক উপজেলা কমপ্লেক্সে কর্মরত ডাক্তার আশিকুর রহমান রনকের সঙ্গে। তিনি তার অভিজ্ঞতা থেকে সেখানকার প্রস্তুতি ও বাস্তবতার কথা যেমন বলেছেন, তেমনি দিয়েছেন সচেতনতামূলক পরামর্শ। দিনলিপির পক্ষে ড. রনকের সাক্ষাৎকার করেছেন ফাহমিদা উর্ণি। দিনলিপি: আপনিতো ঢাকার বাইরে কাজ করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, রামপাল, বাগেরহাটে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার পদে কর্মরত আছেন। সেখানকার ডেঙ্গু পরিস্থিতি কী? ডা. আশিকুর রহমান রনক: ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে একজন মাত্র রোগী এখানে এসেছিলেন চিকিৎসা নিতে। তিনি দুইদিন ভর্তি ছিলেন।…

বিস্তারিত
দিনলিপি 

ডেঙ্গু পরিস্থিতি: সাংবাদিকরা কি প্যানিক ছড়িয়েছে?

স্বাস্থ্য বিটের একজন সংবাদকর্মী হিসেবে ঢাকার ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে প্রত্যক্ষ করতে হয়েছে আমাকে। নিঃসন্দেহে এটা ভয়াবহ পরিস্থিতি। চিকিৎসকরা বলছেন ডেঙ্গু পরিস্থিতি মহামারী পর্যায়ে গেছে। একই ধরনের মত জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করেন বা যাদেরকে আমরা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলে জানি তাদেরও। ঢাকার ভেতরে-বাইরে সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা দেখলে বোঝা যায় পরিস্থিতি কতোখানি ভয়াবহ। জুলাই মাসের শুরুর দিকে আমরা বলছিলাম, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মহামারীর দিকে যাচ্ছে। একটা সময় আমরা এসে দেখতে শুরু করলাম, কোনও হাসপাতালে সিট নাই। প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, মালিবাগের সিরাজুল ইসলাম মেডিকেলে গিয়ে দায়িত্বরত একজনকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনারা ডেঙ্গু রোগীকে…

বিস্তারিত