দিনলিপি 

ফাগুন চলে যাবার চার মাস, শোক আর প্রত্যয়ের দিন

এক. আমাদের প্রতিটা দিন যায় কর গুনে। আমাদের প্রতিটা নিঃশ্বাস পরিণত হয় দীর্ঘশ্বাসে। সন্তানহারা পিতা-মাতার এমনটাই হওয়ার কথা। ইহসান ইবনে রেজা ফাগুন, ফাগুন রেজা, সন্তান হিসাবে আমাদের ছিলো কিন্তু সম্পদ হিসাবে ছিলো দেশের। ওর মতো মেধাবি ও সৎ একজন গণমাধ্যমকর্মীর চলে যাওয়াটা আমাদের চেয়ে দেশের জন্য বেশি ক্ষতিকর। ওকে রক্ষা করতে না পারার ব্যর্থতা রাষ্ট্রযন্ত্রের। জিনিয়া নামের গণমাধ্যমকর্মী মেয়েটিকে উপাচার্য নামের ‘আশ্চর্য’ মানুষটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দিলেন। বললেন, সে বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে। এটাই হয়, জিনিয়ারা যখন হাটে কারো হাঁড়ি ভাঙার চেষ্টা করেন, তখন সেই চেষ্টার বিপরীতে আবিষ্কার হয়…

বিস্তারিত
দিনলিপি 

ভাষিক সহিংসতা এবং নারীর দৈনন্দিন বাস্তব

‘ক্ষমতা মিডিয়া আর মানুষ’ নামে শ্রাবণ প্রকাশন থেকে ২০১২ সালে প্রকাশিত আমার বইতে নারীর উপর ভাষিক সহিংসতা: প্রান্তে তার পাল্টা ভাষা শিরোনামে একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিলো। সেই প্রবন্ধের একটা সংক্ষিপ্ত রূপ দিনলিপির পাঠকের সামনে হাজির করা হলো ঠিক তখন; যখন বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদের শাড়ি সংক্রান্ত একটি লেখাকে ঘিরে ইন্টারনেট দুনিয়ার বাসিন্দাদের একাংশের মধ্যে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিরাজমান এই বাস্তবতার সঙ্গে এই লেখাটা মিলিয়ে পড়ার সুযোগ আছে; এমন ভাবনা থেকে এই পুনঃপ্রকাশ। পটভূমি ভাষাকে কেন্দ্র বিবেচনা করে, এর সাথে ভাবনা-প্রতীক-অর্থ-ক্ষমতা-জ্ঞান-আধিপত্যের সম্পর্কসূত্রকে মিলিয়ে পড়তে গিয়ে, এই লেখার…

বিস্তারিত
কথোপকথন দিনলিপি 

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে ডা. আশিকুর রহমান রনক

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে ঈদুল আজহার সময় ঢাকার বাইরের প্রস্তুতি কেমন ছিল, তা জানতে আমরা কথা বলেছি বাগেরহাট জেলার এক উপজেলা কমপ্লেক্সে কর্মরত ডাক্তার আশিকুর রহমান রনকের সঙ্গে। তিনি তার অভিজ্ঞতা থেকে সেখানকার প্রস্তুতি ও বাস্তবতার কথা যেমন বলেছেন, তেমনি দিয়েছেন সচেতনতামূলক পরামর্শ। দিনলিপির পক্ষে ড. রনকের সাক্ষাৎকার করেছেন ফাহমিদা উর্ণি। দিনলিপি: আপনিতো ঢাকার বাইরে কাজ করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, রামপাল, বাগেরহাটে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার পদে কর্মরত আছেন। সেখানকার ডেঙ্গু পরিস্থিতি কী? ডা. আশিকুর রহমান রনক: ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে একজন মাত্র রোগী এখানে এসেছিলেন চিকিৎসা নিতে। তিনি দুইদিন ভর্তি ছিলেন।…

বিস্তারিত
দিনলিপি 

ডেঙ্গু পরিস্থিতি: সাংবাদিকরা কি প্যানিক ছড়িয়েছে?

স্বাস্থ্য বিটের একজন সংবাদকর্মী হিসেবে ঢাকার ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে প্রত্যক্ষ করতে হয়েছে আমাকে। নিঃসন্দেহে এটা ভয়াবহ পরিস্থিতি। চিকিৎসকরা বলছেন ডেঙ্গু পরিস্থিতি মহামারী পর্যায়ে গেছে। একই ধরনের মত জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করেন বা যাদেরকে আমরা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলে জানি তাদেরও। ঢাকার ভেতরে-বাইরে সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা দেখলে বোঝা যায় পরিস্থিতি কতোখানি ভয়াবহ। জুলাই মাসের শুরুর দিকে আমরা বলছিলাম, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মহামারীর দিকে যাচ্ছে। একটা সময় আমরা এসে দেখতে শুরু করলাম, কোনও হাসপাতালে সিট নাই। প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, মালিবাগের সিরাজুল ইসলাম মেডিকেলে গিয়ে দায়িত্বরত একজনকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনারা ডেঙ্গু রোগীকে…

বিস্তারিত
কথোপকথন দিনলিপি 

সংবাদকর্মী খোরশেদ আলম-এর দিনলিপিতে বানভাসী মানুষের বিপন্নতা

‘প্রথম আলো’র তরুণ প্রতিশ্রুতিশীল সংবাদকর্মী খোরশেদ আলম। কাজ করেন বগুড়া জেলার প্রতিনিধি হিসেবে। তবে বন্যার্ত মানুষদের বিপন্নতা সরেজমিন পরিদর্শনে সদ্য তিনি গাইবান্ধা ঘুরে এসেছেন। নিবিড় মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছেন বানভাসী মানুষের আর্তনাদের চিত্র। দিনলিপির সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে খোরশেদ বগুড়া ও গাইবান্ধার মানুষের বিপন্ন পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাধন অধিকারী। উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতির একাংশ সরেজমিন প্রত্যক্ষ করেছেন আপনি। কী কী দেখলেন? আমি বগুড়া এবং গাইবান্ধার বন্যা কাভার করেছি। দুই জেলার প্রেক্ষাপট আলাদা। গাইবান্ধায় প্লাবিত হয়েছে লোকালয়। বিশেষ করে শহরের মধ্যে পানি ঢুকেছে। সদর, ফুলছড়ি, সাঘাটাসহ চারটি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে…

বিস্তারিত
দিনলিপি 

একটি হত্যা, বিচার ও একজন নাজমুল হুদা

গত ৩০শে জুলাই, মঙ্গলবার টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের ডাইনিং বয় আব্দুল মান্নানকে পিটিয়ে মেরে ফেলে দুই শিক্ষার্থী, এমন অভিযোগ পাওয়া যায়। কিন্তু পরে রটিয়ে দেয়া হয়, গণপিটুনিতে নিহতের খবর। হার্ট অ্যাটাক করে মরার খবরও ছড়ানোর চেষ্টা হয়। মামলা হয়েছে কিন্তু একটি হত্যা মামলাকে ভিন্নখাতে নেয়ার অপচেষ্টা মানতে পারেনি অনেকেই। যারা মানতে পারেনি, তাদের একজন হলেন নাজমুল হুদা, বুটেক্স-এর সাবেক শিক্ষার্থী। খোঁজখবর করে নিশ্চিত হবার পর সে ১ আগস্ট, বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে আসে। কাউকে না পেয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে নিজ হাতে লিখে আনা পোস্টার নিয়ে। একা, সম্পূর্ণ একা। প্রথম দশ মিনিটে দু’জন, বিশ…

বিস্তারিত
কাব্য গাহন দিনলিপি 

মোকাররম রানা-এর কবিতাগুচ্ছ

জুতা নিয়া ১ জুতা পরলে লাইট জ্বলত প্যাক প্যাক কইরা শব্দ হইত হাঁটতাম লাইট জ্বলত আর প্যাক প্যাক করে শব্দ হইত আহারে আমি নিজের পায়ের দিকে নিজের জুতার দিকে মুগ্ধ চোখে তাকায়া থাকতাম আহারে আমার প্যাক প্যাক শব্দ হওয়া আহারে আমার লাইট জ্বলা জুতা ২ জুতাগুলা পরে আমি কত জায়গায় গেলাম কত কি দেখলাম আর ছিঁড়ে গেলে সেলাই কইরা নিতাম যখন আর সেলাই করা যাইত না তখন ফালায়া দিলাম আহারে আহারে আমার ছেঁড়া জুতারা ৩ জুতা বদলাইতে বদলাইতে বদলাইল পথঘাট আহারে আমি জুতা বদলাইতে বদলাইতে বড় হইলাম আহারে আমার ছেঁড়া…

বিস্তারিত
কাব্য গাহন দিনলিপি 

জুয়েল মোস্তাফিজ-এর ৭টি কবিতা

ইটস টাইম টু ডিস্কো… পদ বুঝে অপরাধ, মদ বুঝে মাতাল… ওসি বুঝে থানা, কয়েদি বুঝে হাজতখানা… তুমি বুঝে আমি একটা কোরবানি ঈদ… রাধে? জীবন বাঁশি কাঁন্দে অপরাধে… আইনের পুকুরে তেলাপিয়া একটা মাছ না পাখি? পানি বুঝতে পারে না দরদী… আমার ভাতের গুয়া মেরে নেংটা থালা কেন বাজাও মুনিব? বাংলাদেশ; জেট বিমানে আসছে তোমার বাজেট… সবুজ আর লাল; রঙ্গিলা মা আমার কাঁদছে তোমার পতাকায়…মায়ের কবর থেকে কত উঁচুতে উঠলে মানুষ? মাথা খুলে রেখেছি… ব্যথা খুলে রেখেছি… আজানের সাথে ঝগড়া করে আল্লা বেঁধেছি খোপায়… ফুলের নাম ভুলে গিয়ে গোলাপকে করেছি খুন… অন্ধকার!…

বিস্তারিত
দিনলিপি 

আমরা কি ফাগুনকে ভুলে গেলাম?

নিজের সততা আর একাগ্রতাকে সঙ্গী করে সংবাদকর্মীর যথাযথ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন অগ্রজ সহযোদ্ধা কাকন রেজা। ‘সংবাদকর্মীর দিনলিপি’র মতো আমাদের এমন একটা অপরিচিত ও ছোট্ট প্ল্যাটফর্মেও কাকন ভাই নিয়ম করে লিখছেন। আমাদের চাইতেও হয় না, উনি নিজে থেকেই বিনে পয়সায় লেখা পাঠিয়ে দেন। গতকালও (২০ জুলাই) কাকন ভাই একটা লেখা পাঠিয়েছেন আমাদেরকে, সেটা আপলোড করে তাকে ইউআরএল লিঙ্ক দেওয়ার পর আমায় মেসেঞ্জারে বললেন, ‘ভাই, কাল ২১ তারিখ। ফাগুন চলে যাবার দুই মাস। সবাইতো এমনকি আমিও নতুন ইস্যুতে লিখছি। আপনি লিখবেন, ফাগুনকে নিয়ে, ও চলে যাবার দুই মাসে।’ আমি মৃদুভাবে তাকে…

বিস্তারিত
দিনলিপি সহযোদ্ধার ভাবনাবিশ্ব 

রাষ্ট্র, বিশ্ববিদ্যালয় ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট জ্ঞানতত্ত্ব

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনীতি দূর করতে হবে; এই বিষয়টায় আমাদের সুশীল-সামরিক সকল মহলে এক বিরাট ঐক্যমত্য আছে। বাংলাদেশে খোদ ‘রাজনীতি’র সংজ্ঞাটাই যখন ‘দুই-দলীয় মাইর’ তত্ত্বে বিলীন হয়ে যায় তখন এমন একটা বিষয়ে যে এক ধরনের জন-সম্মতি গড়ে উঠবে বা গড়ে তোলা সম্ভব হবে তা খুব বিস্ময়কর নয়। কিন্তু, রাজনীতি বিতাড়ন করতে গিয়ে আরেকটা প্রশ্ন তারা আড়ালে রাখেন, সেটা হচ্ছে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় কি আদতেও ‘বিশ্ববিদ্যালয়’ হয়ে উঠতে পেরেছে? সুখের কথা, আমাদের এখানে নব্য উপনিবেশিক (নিও কলোনিয়াল) ও নব্য উদারবাদী (নিও লিবারেল) যুগ-বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে অনেকেই এই প্রশ্নগুলো তোলা শুরু করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে গৎবাঁধা…

বিস্তারিত