সহযোদ্ধার ভাবনাবিশ্ব 

সেইসব দিনরাত্রি

সর্বশেষ আপডেটঃ

পড়তে সময় লাগবে: 3 মিনিট

মানুষ থেকে অন্য কিছু, এখন শুধু হারিয়ে যাই

অন্যরকম অন্য কিছু, শুধু যেন বদলাই

একলা একা, যখন তখন , যা খুশি তাই মনের মতন

হয় না খুঁজে পাওয়া, যায় না হারিয়ে যাওয়া

অচেনা সব মানুষ একি, আপন সে পর দেখি

অজানা তাই নতুন করে ভয় লাগে;

মানুষ থেকে অন্য কিছু, এখন শুধু হারিয়ে যাই

অন্য রকম অন্য কিছু, শুধুই যেন বদলাই

এখন শুধু নিজেকে নিয়ে আঁকড়ে ধরে বাঁচি

মানুষের কথা লাগে যত ভনভনে মাছি

কোথায় আছি, কেন আছি?

পোড় খাওয়া মন দুঃস্বপ্নে বাঁচি

মানুষ থেকে অন্য কিছু, এখন শুধু হারিয়ে যাই

অন্য রকম অন্য কিছু, শুধু যেন বদলাই

মানুষ না, যেন কাগজের মেয়ে হয়ে যাই!

–  তারিন  (০৮/১১)

কবিতা দিয়ে শুরু করেছি; “কাগজের মেয়ে” – নিজের বদলে যাওয়া, সেই বদলে যাওয়া থেকে কিছু আক্ষেপ, পাওয়া না পাওয়ার দ্বন্দ্ব… সব মিলিয়ে এক রকমের স্মৃতি মন্থন বলা যেতে পারে। এই যে শৈশব থেকে বেড়ে ওঠা, এই বেড়ে ওঠাটা কতটা নিজের মত আর কতটা অন্যের চাপিয়ে দেওয়া, সেটা নিয়ে ভাবি আজকাল। তারপর যেটা খেয়াল করি, তা হলো এই যে, সময় পাড় হয়ে গেছে। অন্যের ইচ্ছা পূরণ করতে করতে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি। পরিবার, সমাজ, দায়িত্ব – সব কিছুকে এত বেশি প্রাধান্য দিয়েছি যে, পিছনে ফিরে আর নিজের ছেলেবেলা মনে পড়ে না। তখন অবাক হয়ে ভাবতে থাকি যে – এত্তগুলো বছর বুঝি অজ্ঞান হয়েই কাটিয়ে দিলাম। তা না হলে ফেলা আসা শৈশব নিয়ে মন খারাপ হতো। কেন কিছু মনে আসে না? ছেলেবেলা … নাকি মেয়ে বলে “মেয়েবেলা” বলবো? আচ্ছা, তাহলে মেয়েবেলা কেমন ছিলো আমার?  

খুব বেশি ডানপিটে ছিলাম না কোনও কালেই। সাহস হতো না। মেয়ে হলে যেন একটা অপরাধবোধ সেই ছোটকাল থেকেই মাথায় গেঁথে দেওয়া হয়। তবু হয়তো ভালোই ছিলাম। সবার মত না হতে পারাটা নিয়ে কখনো হতাশ হতে চাইনি। কিন্তু ইদানিং অনেক কিছু অনেক বেশি ভাবায়, আর তা থেকেই জন্ম হয় আক্ষেপের। কিন্তু সেদিকে ঠিক যাবো না। যা হারিয়ে গেছে, তাতো গেছেই। যদি কিছু বলতেই হয়, তবে সময়ের ব্যবধানে জীবন যেখানে যেমন তা নিয়ে অল্প-স্বল্প বলতে পারি।

তার আগে যে ছবিটা নিয়ে কথা বলবো সেটা দিয়ে নিই এখানে…

ছবির স্থানঃ ময়মনসিংহ, টাইটেল – শৈশব

ছবি নিয়ে কথা বলতে ভালো লাগে, কেননা ছবি একটা গল্প বলে। আর সেই গল্পটা একেকজন একেক ভাবে দেখে, বলে এবং বোঝে। কেননা যার যার ভাবনা তার নিজের কাছে নিজের মত।

ছবিটা মূলত একটা আনন্দক্ষণ। নিছক ছেলেমানুষি, কিছু খেলা, দলগত উচ্ছ্বাস আর আনন্দের ভাগাভাগি।

এই হলো শৈশব – নির্ঝঞ্জাট, হাসিখুশি, দল বেঁধে খেলাধূলা করা, সামর্থের মধ্যে নিজেদের আনন্দে রাখা এবং তা বন্ধুদের সাথে ভাগাভাগি করে নেওয়া। প্রাণবন্ত কিছু  মুহূর্তে বেঁচে থাকা, যা হয়তো একটা সময় কেবল স্মৃতি বলেই মনে থাকবে। সেই শৈশবকাল কেমন কেটেছে আপনার, আমার, আমাদের? নিজেদের মত করে বেড়ে ওঠাও যেন একটা সময় স্বপ্ন হয়ে গেছে। কেননা যে হারে জীবন যাপনের ধারা উন্নত করতে আমরা সবাই প্রতিযোগিতায় নেমে গেছি, তাতে আনন্দ আর আনন্দ বলে মনে হয় না। সেখানেও কার থেকে কে বেশি আনন্দের ভাগিদার সেই মাপকাঠি জুড়ে দেওয়া হয়েছে অনেক আগেই।

একটা সময় ছিল যখন জীবন শুধু উদযাপিত হতো খেয়াল খুশি মতো। তারপর একটা সময় আসলো সামনের দিকে এগিয়ে থাকার লড়াইয়ে ছেলেমানুষিগুলো হারিয়ে যেতে বসলো। আর এখন যে সময়ে আছি, সেখানে না আছে হাসি মোড়ানো আনন্দঘন স্মৃতি, না আছে ভবিষ্যতের আলোর পথযাত্রী হওয়ার লক্ষ্য। বাকি যা রয়ে গেছে তা কেবলই ছুটে চলা, প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার তাড়না আর শৈশবকে ভুলে গিয়ে যান্ত্রিকতায় অভ্যস্থ হওয়া।

ছবি থেকে কবিতা কিংবা কবিতা থেকে ছবি, মেলবন্ধন খুব একটা নেই জানি। তবু হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোকে মনে করিয়ে দিয়ে, ব্যস্ততার মাঝে নিজেকে আরেকবার মানুষ হিসেবে খুঁজে পেতে এই ভাবনা আদান প্রদানের প্রয়াস।  

আরও পড়ুনঃ

Leave a Comment