যে ঘটনা খবর হয়নি 

সাব্বিরের কান্না

সর্বশেষ আপডেটঃ

পড়তে সময় লাগবে: 1 minute

সাব্বিরের সাথে দেখা সাতক্ষীরার এক কফি হাউজে। হাফ প্যান্ট আর তেল চিটচিটে একটা কালো রঙা টি-শার্ট পরা ছেলেটির হাতে ট্রে। বয়স ১২-১৩ বছর হবে। ঈদের সময় ক্যাফেতে প্রচুর ভীড়। তারপরে আবার সন্ধ্যে বেলা। কাস্টমারের হাক-ডাকে সরগরম। চাহিদা অনুযায়ী খাবার দিতে হিমশিম খাচ্ছে ওয়েটাররা। ফলস্বরূপ আমার সামনেই হাফ ডজন গালি খেয়ে গেল সাব্বির। গালি খেয়ে মুখ দিয়ে টুঁ শব্দটি বের হলো না।

রাগ আর গালিমাখা প্রশ্ন হজম করে তার প্রত্যুত্তর দিতেও অপারগ সে। শুধু নির্লিপ্ত চোখ দুটি ফ্যালফ্যাল করে তাক করা প্রশ্নকর্তার দিকে। নিয়ন আলোর ডেকোরেশনে গোলাকৃতির ভিন্ন ভিন্ন ছাউনিতে কাস্টমার বসা। কোনটায় সবুজ কোনটায় লাল রঙের আভা। কাস্টমারের চেহারাগুলোয় রঙ-বেরঙের ফিল্টার।

খাবার আসতে দেরি হওয়ায় আমরাও অধৈর্য্য। বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে ক্যাফের সম্মুখের ক্যাশ কাউন্টারে রওনা দিলাম। কাউন্টারে পৌছাতেই সাব্বিরকে দেখলাম। লুঙ্গি আর শার্ট পরা এক মধ্যবয়সী ব্যক্তির থেকে চোখের পানি লুকোনোর চেষ্টা তার। মুহূর্তেই চোখ মুছতে মুছতে ক্যাফের গেটের বাইরে চলে গেল সে। পাছে লোকে দেখে ফেলে চোখের জল।

ক্যাশ কাউন্টারে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কাঁদছে কেন?’

জানলাম মধ্যবয়স্ক ব্যক্তিটি সাব্বিরের বাবা। আজ তার ওয়েটারগিরির প্রথম দিন। ক্যাফের পাশেই বাসা। বাবা দিনমজুর। সারাদিনের কর্মব্যস্ততা, এতো গালি-গালাজ শেষে চেনা মুখ দেখে আবেগ আর লুকোতে পারেনি। সে আবেগ দেখাতেও চায়নি।

ভাবি, চোখের পানি মানুষ সবার সামনে ঝরাতে পারে না। চোখের পানি অনেক ব্যক্তিগত হয়।

আরও পড়ুনঃ

Leave a Comment