সহযোদ্ধার ভাবনাবিশ্ব 

শিশুপাঠ্যে বিদ্বেষের বীজ

সর্বশেষ আপডেটঃ

পড়তে সময় লাগবে: 2 মিনিট

চিত্রকলা, তথা ছবির একটা মজার দিক হচ্ছে – এটা এমন একটা মাধ্যম যা সহজেই আমাদের মস্তিষ্কের স্থান দখলে সক্ষম। কোনও কিছু লিখে বা পড়ে আপনি যত সহজে তা স্মৃতিতে রাখবেন, একটা ছবি দিয়ে আপনি আরও সহজে তা করতে পারেন যা কিনা দীর্ঘস্থায়ী’ও বটে। আর সেই ছবি যদি হয় রঙিন, তাহলে তো কথাই নেই। এ কারণেই ছোটদের বই সবসময় অনেক রঙিন হয়। অক্ষর পরিচিতির জন্য বর্ণমালার বই থেকে শুরু করে, ছড়া, কবিতা, এমনকী গল্পের বইগুলো অনেক বেশি রঙিন করা হয়। এতে বাচ্চাদের মনসংযোগ সহজ হয়।

স্কুল বা প্রি-স্কুলে যাওয়ার আগে থেকেই বাসায় আজকাল বাচ্চাদের নানা রকম বই আর খেলনা দিয়ে মা – বাবারা অনেক কিছু শেখানোর চেষ্টা করেন। তাই ছবিওয়ালা বইয়ের কদর সব সময় বেশি। এটা একটা ভালো দিক। সম্ভবত মুঠোফোন অথবা টিভির সাথে অভ্যস্থ না করে, বইয়ের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারাটা শ্রেয়তর। হতে পারে বইটা শুধুই একটি ছবির বই। হতে পারে অক্ষর বা বর্ণ পরিচয়ের বই। কিন্তু রঙিন বইয়ের মলাট থেকে শুরু করে ভেতরের বিষয়বস্তু, প্রায় সব কিছুই হয় অনেক সুন্দর ও আকর্ষণীয়।

উপরের ছবিটা বাজারে পাওয়া একটি বইয়ের। বইটির নাম “ছবি ছড়ায় ব্যঞ্জনবর্ণ পড়া”। বইটি যেহেতু শিশুদের প্রাথমিক অক্ষর জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে রচিত, সে কারণে নিঃসন্দেহে এটা হওয়া উচিৎ জাতি- ধর্ম বর্ণ, গোত্র যে কোনও কিছুর ঊর্ধ্বে। একজন শিশুর মনমানসিকতা অনেকাংশে বদলে যায় তার পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে। আপনি ছোটকাল থেকে যা শিখেছেন জীবনভর আপনার আচার ব্যবহারে তার ছাপ থেকে যাবে। শিশুরা ছোটকালে যা শিখবে, কিংবা যে পরিবেশে বড় হবে বিকশিত বাস্তবতাতে তাদের সেই শিক্ষা ও প্রতিবেশের প্রভাব হবে সবথেকে বেশি। এখন আমরা যদি নানান ধারার প্রাতিষ্ঠানিক ও লোকায়ত ধর্মের জায়গায় কেবল একটা মাত্র ধর্মমতকে তাদের শিক্ষার উপজীব্য করি, তাহলে তাদের মধ্যে বিদ্বেষের বীজ রোপিত হবে। আমরা যদি তাদের গান শুনতে বারণ করার মতো ভয়াবহ নিষেধাজ্ঞা জারি করি, তাহলে তাদের চিন্তাধারায় অন্ধত্ব জেঁকে বসতে বাধ্য।

আমি ধর্ম বুঝি কম, তাই সেটা নিয়ে কিছু ইঙ্গিত করার সাহস করবো না। শুধু যেটা বলতে চাই তাহলো, যিনি বা যারা এই বইটি সংস্কারের চেষ্টা করেছেন এবং যে উদ্দেশ্য নিয়ে করেছেন তিনি নিজে আদৌ কতটা সঠিক ধর্মে শিক্ষিত সেটা বুঝতে হবে।

আমার এক বন্ধু যখন এই বইয়ের ছবিটা দেখলো, তখন সে আমাকে মনে করিয়ে দিলো যে, স্কুলে থাকতে আমাদের বাংলা বিষয়টি পড়াতেন যেই শিক্ষক, তিনি একদিন বলেছিলেন – “খোদা পারসি শব্দ এবং এর স্ত্রী লিঙ্গ হয় খুদী”। আর তখন আমার এটাই মনে হয়েছে যে অনেক কিছুই শুধু বই পুস্তক থেকে না পড়লেও মনে রয়ে যায়। আর ছোটকাল থেকেই তাই কারও সাথে দেখা হলে বা কুশলাদী বিনিময়ের আগে সব সময় “সালাম” দিয়েই কথাবার্তা শুরু করি যে অভ্যাস এখনও একই রকম রয়ে গেছে।

আরও পড়ুনঃ

Leave a Comment