দিনলিপি 

শরিয়ত সরকার এবং সিলেক্টিভ জাস্টিস

সর্বশেষ আপডেটঃ

পড়তে সময় লাগবে: 1 minute

শরিয়ত সরকার নামে একজন বাউলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে অনেকেরই আক্ষেপ দেখলাম। তার মুক্তি চাইতে দেখলাম। দু’একজন ছাড়া কাউকেই আলোচনা করতে দেখলাম না, কোন আইনে সেই বাউলকে গ্রেপ্তার করা হলো। বাউলকে গ্রেপ্তারের অজুহাতটা কাজে লাগানো হলো কীভাবে। আপনি এক শরিয়ত সরকারের মুক্তি চাইছেন, তার বিষয়টি গণ ও সামাজিকমাধ্যমে ক্লিক করেছে বলে।

এক শরিয়ত সরকারের বিপরীতে এমন অনেক ঘটনাই রয়েছে যা গণ বা সামাজিকমাধ্যমে ক্লিক করে না। তাদের বেলায় কী হবে? তাদের জন্য কি মুক্তির দাবি তুলবেন আপনারা? না, তুলবেন না। না জানলে তুলবেন কিভাবে। অর্থাৎ যা জানা তাই সিলেক্টেড। শরিয়ত সরকারের বিষয়টি জানা তাই তা সিলেক্টেড। আর সেই সিলেক্টেড বিচারের দাবি হলো, ‘সিলেক্টিভ জাস্টিসে’র দাবি। আর ‘সিলেক্টিভ জাস্টিস’ ন্যায়ত অবিচারেরই সামিল।

শরিয়ত সরকার এখানে জাস্ট একটা সিম্বল। শুধু এই সিম্বলকেই যদি সিলেক্ট করেন, বিপরীতে কারণটা এড্রেস না করেন, সিলেক্ট না করেন, তাহলে হাজারো শরিয়ত সরকার এমন পরিণতি বরণ করবে। সুতরাং কাণ্ডটা না গোড়াটাকে সিলেক্ট করুন। তাতে এক শরিয়ত সরকার না সকল সরকারই বেঁচে যাবে।

দুই.

বেশ কয়েকটি ধর্ষণের খবরে একজন প্রশ্ন করেছেন, দেশে কী শুরু হলো? সামাজিকমাধ্যমে তার প্রশ্নটির উদ্ভবের পেছনেও সেই ‘সিলেক্টিভ’ বিষয়টি। ঢাকা ভার্সিটির শিক্ষার্থী ধর্ষণের পরেই সংবাদমাধ্যমে ধর্ষণের বিষয়টি প্রায়োরিটি পাওয়া শুরু করে। অন্য কথায় ‘সিলেক্ট’ হয়। ধর্ষণ এর আগেও হয়েছে, হচ্ছে এবং তা সমানতালে। যখন কোনো বিষয় ক্লিক করে তখন তা ‘সিলেক্টেড’ হয়, সে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া হয়। তারপর ‘যাহা পূর্বং তাহা পরং’।

এটাও ‘সিলেক্টিভ জাস্টিস’। অর্থাৎ ক্লিক করেছে বলেই তার উপর দৃষ্টি পড়েছে, আর না হলে পড়তো না। এই যে দৃষ্টির সীমাবদ্ধতা এটাই ধর্ষণসহ সব অপরাধের মূল কারণ। আর এই সীমাবদ্ধতার কারণেই ‘সিলেক্টিভ জাস্টিসে’র উদ্ভব। এমন ‘জাস্টিসে’ দাবি অবশ্যই ন্যায়বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। ধর্ষণের ‘সিলেক্টিভ জাস্টিস’ নয়, ধর্ষণের সামাজিক প্রক্রিয়াকে শুদ্ধ করেুন। সমাজ নিয়ন্ত্রক রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে সংস্কারের দাবি তুলুন।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

আরও পড়ুনঃ

Leave a Comment