যে ঘটনা খবর হয়নি 

বন্যাদুর্গত খামারি আর পশু মালিকদের জন্য জনপ্রতি বরাদ্দ ১ টাকা ৩৩ পয়সা

সর্বশেষ আপডেটঃ

পড়তে সময় লাগবে: 2 মিনিট
বগুড়ার বন্যাচিত্রছবি: মোস্তফা সবুজ

বন্যাদুর্গত বগুড়া জেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সারিয়াকান্দি উপজেলা। সেখানকার চালুয়াবাড়ি ইউনিয়নের যমুনা নদীর দুর্গম ১১ চরের বাসিন্দাদের বিপন্নতা সহ্যাতীত। চরগুলোর হাজারো মানুষের বসতভিটা নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। খোলা আকাশের নিচে বসত গড়েছেন অনেকেই। অথচ দুই সপ্তাহেও সেখানে পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছায়নি।

কাজলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে দুর্গত পরিবারের সংখ্যা ৪৩০। ১৫ কেজি করে চাল পেয়েছে ৩৩৩ পরিবার। ১০০ পরিবার এখনো ত্রাণ পায়নি। কামালপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে বানভাসি ৫০০ পরিবার বাঁধে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের মধ্যে ত্রাণ পেয়েছে ২০০ পরিবার।

জেলায় বন্যায় কৃষি, মৎস্য, গবাদিপশু ও রাস্তাঘাটের ক্ষতি মিলিয়ে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব মতে বন্যায় ২৩ হাজার ৩০ হেক্টর পাট, আউশ, মরিচ, আখ, আমনের বীজতলা ও শাকসবজিসহ ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে বন্যার পানিতে পাট ভেসে গেছে ১০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির। এ পর্যন্ত ৬৬ হাজার ৬৩৫ কৃষক পরিবারের সব মিলিয়ে ৩১৪ কোটি ২০ লাখ টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় জেলার ৪৯ হেক্টর আয়তনবিশিষ্ট ৩১৪টি জলাভূমির ৯৬ মেট্রিক টন মাছ ও পোনা ভেসে গেছে। খামারি ও চাষিদের ২ কোটি ৯৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত সোমবার পর্যন্ত জেলায় বন্যাদুর্গত গবাদিপশুর সংখ্যা প্রায় ২ লাখ। ক্ষতিগ্রস্ত খামারি ও কৃষকের সংখ্যা ৭৫ হাজার। খামার, চারণভূমি ও খাদ্যের ক্ষতি হয়েছে ২ কোটি টাকা। অথচ গত রোববার পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত গবাদিপশুর খাদ্যসহায়তা হিসেবে সরকারি ত্রাণ মিলেছে ১ লাখ টাকা। সে হিসাবে দুর্গত এলাকায় প্রতিটি পশুর খাদ্যসহায়তায় বরাদ্দ ৫০ পয়সা। আর ক্ষতিগ্রস্ত খামারি ও পশুর মালিকদের মাথাপিছু বরাদ্দের পরিমাণ ১ টাকা ৩৩ পয়সা।

আরও পড়ুনঃ

Leave a Comment