দিনলিপি 

ফ্যাসিজমের ইুঁদর ও মুক্তির কথকতা

সর্বশেষ আপডেটঃ

পড়তে সময় লাগবে: 2 মিনিট

ফ্যাসিজম দীর্ঘায়িত হলে স্তাবক শ্রেণির সারিও দীর্ঘ হয়, এটা কোনো নতুন কথা নয়। মানুষের সহ্য ও ধৈর্য শক্তি দুটির সীমার মধ্যেই শ্রেণি বিভাজন রয়েছে। যে বিভাজন শ্রেণিটা চিনিয়ে দেয়ার বিভাজন। জাহাজ যখন ডুবে তখন ইঁদুরেরা নাকি প্রথম টের পায়। যাদের শক্তিসীমা কম তারা এই ইুঁদর শ্রেণির। তারা ডুবন্ত জাহাজ থেকে নেমে ভাসন্ত জাহাজে উঠে যায়। সেখানেও প্রয়োজনীয় সময় পর্যন্ত মানিয়ে নেয়। কিচকিচে স্তব রচনা করে এবং সেখানের খাবারে পরিপুষ্ট হয়।

এমন জাহাজত্যাগী অনেক ইুঁদর দেখা যায় আশেপাশেই, দৃষ্টি ও চিন্তাসীমার মধ্যেই। এমন ইঁদুরেরা ক্রমেই নাদুস-নুদুস হয়ে উঠে। খেয়ে নেয় সাধারণের ভাগের চাল-ডাল-রুটি। নিজ চিন্তার দর্শনই পাল্টে ফেলে, কমরেড ইঁদুরেরা হয়ে উঠে আলহাজ্ব। সমাজতন্ত্র রূপ নেয় বৈজ্ঞানিক ধর্মতন্ত্রে! জননেতা হয়ে উঠে রণনেতা। গণতন্ত্র রূপ নেয় গুমতন্ত্রে। হয়তো, ফ্যাসিজম দীর্ঘায়িত হলে এমনটাই হয়।

হয়, কবিতার বদলে বন্দনা হয়ে উঠে সাহিত্যের কাব্যধারা। ‘যায় যদি যাক প্রাণ, হীরকের রাজা ভগবান’ ধরণের স্তুতি প্রতিস্থাপিত হয় ‘এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়’ এমন শব্দগুচ্ছের স্থলে। পুরস্কার লোভে বন্দনাকাব্যে ব্রতিগণ কবি থেকে ক্রমেই স্তৃতিকার হয়ে উঠেন। ‘উনি কেনো মসিহা ছিলেন’ এমন প্রবন্ধ সহযোগে রচিত হয় গবেষণা গ্রন্থ। টেলিভিশন, খবরের কাগজ, হালের অন্তর্জালে ছড়িয়ে যায় এমন গ্রন্থের ‘ভালোচনা’, সমালোচনা নিষিদ্ধ বলে। ফ্যাসিবাদের স্তাবকরা ‘ভালোচনা’য় ফুলে-ফেঁপে উঠে।

ফ্যাসিজম দীর্ঘ হলে, এক গোয়েবলস থেকে হাজারো গোয়েলবস’র জন্ম হয়। আতি গোয়েবলস, পাতি গোয়েবলস। ব্যাপ্তি ঘটে শহর থেকে পাড়া-বেপাড়া পর্যন্ত। তারা চাঁদ-সুরুজে দেখায় ফ্যাসিজমের প্রতিকৃতি। লালপতাকায় ঢাকে ফ্যাসিবাদী মুখ। তারা ধুতির সাথে প্যান্টলুন, পাঞ্জাবির সাথে কোটের সমন্বয়ে বানায় কিম্ভুত পোশাক, ফ্যাসিবাদের ইউনিফর্ম। তারা মেলাতে গিয়ে গুলিয়ে ফেলে। মানুষ গুবলেট হয়ে শিম্পাজি জন্ম নেয়। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদে ক্রোমোজমে সামান্য এদিক-সেদিকে এমনটা হয়।

বাতাস গুমোট হয়ে উঠে। অভিমানী বাতাসে জন্ম নেয় ভাইরাস। ফ্যাসিবাদে আবদ্ধ মানুষের মুক্তি মৃত্যুতে, এমনটা ভেবেই বিনাশী হয়ে উঠে ভাইরাসের প্রেম। ছড়িয়ে পড়ে ক্রমাগত মৃত্যুদূত হয়ে। শহর থেকে গ্রাম মৃত্যুর গন্ধ ছড়ায় দূষিত বাতাসে। মানুষ মৃত্যুতে মুক্ত হয়। ফ্যাসিবাদ জেঁকে বসলে ভাইরাসের এমন মুক্তি ঘটে। প্রকৃতিও মুক্তি খোঁজে আত্মহননে।

নারীরা সন্তান জন্মদানে নিরুৎসাহিত হয়ে উঠে। ধর্ষণাক্রান্ত ফ্যাসিবাদে শক্তির উন্মত্ততা থাকে আনন্দের উচ্ছাস নয়। সন্তান আনন্দ-সঙ্গমের নিষিক্ত ফসল। মায়ের মঙ্গলকামনা ব্যর্থ হয় বলে জেনেটিক ভয় ছড়িয়ে যায় ক্রোমোজমের প্রতি যুগলে। জন্মের পরই তৈরি কংস মামা বিনাশ সাধনে। বিনাশ শরীরের কিংবা মননের-মেধার। ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ চর্চায় বিনাশের সিদ্ধি লাভ ঘটে।

দুই.

এবার ফ্যাসিজমের বিনাশের কথা বলি। বিশালবপু একজন মানুষকে ধমকে যাচ্ছে একটি পুঁচকে ছেলে। এতটা বপু’র মাঝে ক্ষুদ্র হৃদয়ের কারণেই এমন দুরবস্থা, বিপর্যয়। ফ্যাসিজমও সেই পুঁচকে বখাটে, যার সমানে বিশাল বপু’র রাষ্ট্র কুঁচকে থাকে। বেশি কথা থাক, বপুর সমান নয়, তার শত ভাগের দশভাগ হৃদয়টাকে বড় করে তুলুন। হাত তুলুন, হাঁক ছাড়ুন, দেখবেন ফ্যাসিবাদ হাওয়া। জাস্ট এটুকুই, ফ্যাসিবাদ এর থেকে বেশি কিছু নয়।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

আরও পড়ুনঃ

Leave a Comment