কথোপকথন দিনলিপি 

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে ডা. আশিকুর রহমান রনক

সর্বশেষ আপডেটঃ

পড়তে সময় লাগবে: 2 মিনিট

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে ঈদুল আজহার সময় ঢাকার বাইরের প্রস্তুতি কেমন ছিল, তা জানতে আমরা কথা বলেছি বাগেরহাট জেলার এক উপজেলা কমপ্লেক্সে কর্মরত ডাক্তার আশিকুর রহমান রনকের সঙ্গে। তিনি তার অভিজ্ঞতা থেকে সেখানকার প্রস্তুতি ও বাস্তবতার কথা যেমন বলেছেন, তেমনি দিয়েছেন সচেতনতামূলক পরামর্শ। দিনলিপির পক্ষে ড. রনকের সাক্ষাৎকার করেছেন ফাহমিদা উর্ণি

দিনলিপি: আপনিতো ঢাকার বাইরে কাজ করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, রামপাল, বাগেরহাটে আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার পদে কর্মরত আছেন। সেখানকার ডেঙ্গু পরিস্থিতি কী?

ডা. আশিকুর রহমান রনক: ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে একজন মাত্র রোগী এখানে এসেছিলেন চিকিৎসা নিতে। তিনি দুইদিন ভর্তি ছিলেন। তার তেমন কোনও শারীরিক জটিলতা ছিল না।  ইনভেস্টিগেশন নরমাল ছিল। পরে পেশেন্ট স্বেচ্ছায় খুলনা মেডিকেল কলেজে অ্যাডমিট হয়।  

দিনলিপি:  আশঙ্কা করা হচ্ছিল, ঈদের মধ্যে ঢাকা থেকে আক্রান্ত অবস্থায় মানুষজন বাড়ি গেলে ডেঙ্গু দেশব্যপী বিস্তার লাভ করতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আপনার কর্মরত এলাকায় কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল কি?

ডা. রনক: ঈদের আগেই আমরা ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা একটি ওয়ার্ড প্রস্তুত রেখেছিলাম এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ ওষুধ, স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত ছিল। ডাক্তার, নার্স ইতোমধ্যে সবাই প্রস্তুত ছিলেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের এলাকা থেকে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া র‍্যালি ও আলোচনা সভা করে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

দিনলিপি:  ডেঙ্গু জ্বরে মৃত্যুর আশঙ্কা কখন তৈরি হয়? সময়মতো ডেঙ্গু শনাক্ত করা গেলেই কি সব মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব?

ডা. রনক: সাধারণত ডেঙ্গু জ্বর প্রথম তিনদিন পর থেকে খারাপ হওয়া শুরু হয়। জ্বরের ৪-৭ দিন পর্যন্ত সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সময়মতো ডেঙ্গু শনাক্ত করা গেলে অবশ্যই  তা প্রতিরোধ করা সম্ভব। তবে ব্যতিক্রম আছে। কিছু কিছু ডেঙ্গু রোগী হঠাৎ করে অজ্ঞান হয়ে যায়। ব্লাড প্রেসার পাওয়া যায় না। পালস বোঝা যায় না। এটাকে বলে ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম। এটি কমন না, এটি খুবই রেয়ার। এমন বাস্তবতায় রোগীকে বাঁচানো কঠিন হয়ে যায়। এরমধ্যে যারা ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে তাদের বেশিরভাগই শক সিন্ড্রোমেই মারা গেছে।

দিনলিপি:  অতীতের তুলনায় এবারের ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ কেন? এডিস মশা কি আগের থেকে শক্তিশালী হয়েছে?

ডা. রনক: এবারের ডেঙ্গু  জ্বরটি একটু ব্যতিক্রম। অতীতের তুলনায় এবার ডেঙ্গুর ধরনটা ভিন্ন। সামান্য জ্বরের সাথে পেটে ব্যথা, বমি, কাশি নিয়ে প্রেজেন্ট করছে। রোগীরা এবার ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোমে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগের যে দুটি প্রজাতি DEN-1 ও DEN-2 দ্বারা ডেঙ্গু হতো তা পরিবর্তিত হয়ে DEN-3 দ্বারা হচ্ছে। ফলে শক সিন্ড্রোমে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।

দিনলিপি:  ডেঙ্গুকে বলা হচ্ছে প্রিভেন্টেবল ডিজিজ। এই রোগ ঠেকাতে দেশবাসীর প্রতি আপনার পরামর্শ কী হবে?

ডা. রনক: দেশবাসীর প্রতি আমার পরামর্শ হচ্ছে, জ্বর হলে অবহেলা না করে অবশ্যই দ্রুত রেজিস্ট্রার্ড, এমবিবিএস ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। কোনভাবেই জ্বরকে অবহেলা করা যাবে না। আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। সম্ভব হলে দিনের বেলায় মশারি টানিয়ে ঘুমাতে হবে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের প্রতি আলাদাভাবে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, তাদেরকে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। ভয় না পেয়ে সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা নিতে পারলে ডেঙ্গু জ্বর থেকে আমাদের মুক্তি মিলবে।

আরও পড়ুনঃ

Leave a Comment