যে ঘটনা খবর হয়নি 

জকিগঞ্জের কাস্টম ঘাট কিংবা অতিক্রান্ত রাষ্ট্রীয় সীমানা

সর্বশেষ আপডেটঃ

পড়তে সময় লাগবে: 2 মিনিট

একটা সময় ছিল যখন কাস্টম ঘাটে না গেলে দিনটাই অপূর্ণ থেকে যেতো। প্রাইমারি স্কুলে পড়ার সময় টিফিনের আগে বা ক্লাস শুরুর আগে দৌড় দিয়ে কাস্টম গিয়ে মশাইদ দাদার কাছ থেকে কমলা নিয়ে আসা ছিল নিত্যকার ঘটনা। একটু বড় হলে বিকালে স মিল দিয়ে বের হয়ে কাস্টমে গিয়ে বসে থেকে সন্ধ্যা কাটানো ছিল নিয়মিত বিষয়। আর মাঝে মাঝে মালবোঝাই জাহাজ যখন আসতো তখন সেখানে আসা-যাওয়া আরও বেড়ে যেত। 

এখন যেমন কাস্টমে বসার সুন্দর জায়গা হয়েছে তখন তেমন কিছু ছিল না। ইমিগ্রেশন অফিসের সামনে ছিল মাত্র একটা চায়ের দোকান আর বিডিআরদের (এখন বিজিবি) বসার জন্য ছাউনি মতো একটা ঘর। তখন আমাদের বসার একমাত্র জায়গা লাল রঙয়ের পানি উন্নয়ন বোর্ডের যে লোহার স্থাপনা সেটাই। এখনো অনেকেই সেখানে বসে। প্রথম যখন এটা স্থাপন করা হয় তখন আমাদের আগ্রহের শেষ ছিল না। মনে আছে, ওইটার উপরে বসে গাফলা খেলা আর যে রাব্বারের মতো গাম দিয়ে নাটবল্টু ঢেকে দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে গবেষণা করে কতো যে সময় গেছে তার কোনও ইয়ত্তা নাই। 

আর শীতের দিনে সন্ধ্যাবেলায় কাস্টমে গাছগুলোতে পাখির কিচির মিচির এখনো কানে বাজে। পাখির কলরবের সঙ্গে কুশিয়ারা নদীর ওপাশে ভারতে উচ্চস্বরে শোনা যেত গান। সবমিলিয়ে সূর্য ডুবার সময়টা কাস্টমে কাটানো ছিল অন্যরকম ভালোলাগার। 

জকিগঞ্জে পৌরবাসীর বিনোদন বা ঘুরে বেড়ানো কিংবা আড্ডা দেওয়ার উন্মুক্ত কোনও জায়গা ছিল না। জকিগঞ্জে ঘুরে বেড়ানো বলতেই ছিল এই কাস্টম ঘাটে হেঁটে বেড়ানো কিংবা বসে থাকা। আবার কেউ কেউ পড়ন্ত বিকেলে নদীতে নৌকায় ঘুরতেন। 

কুশিয়ারায় নদীতে নৌকা ভ্রমণটাও অন্যরকম। একপাশে বাংলাদেশ, অপর পাশে ভারত। এখন তো নৌকায় পতাকা লাগাতে হয়, আগে এতো কড়াকাড়ি ছিল না। নৌকা নিয়ে চলে যাওয়া যেত একেবারে ভারতের কাছেই। শুধু বাইরের মানুষ নয়, এলাকার মানুষের কাছেও বিষয়টি ছিল ভালোলাগার।

শীতের সময় ঘুড়ি উড়ানোতেও ছিল অন্যরকম অনুভূতি। বাংলাদেশ ও ভারতের ঘুড্ডির লড়াই! অবশ্য খালি লড়াই যে ছিল তা না, বন্ধুত্ব ও বিনিময়ও ছিল। বাংলাদেশের ঘুড়ি ভারতে যাওয়ার পর সেখান থেকে সুতোটে বাঁশ বেঁধে নিয়ে আসা নিয়মিতই হতো। ফজলু চাচা, মস্তাক চাচা, রাজ্জাক চাচা ছিলে ঘুড়ি উড়ানোতে ওস্তাদ। তারা যখন বিকালে ঘুড্ডি উড়াতেন মানুষ জড়ো হয়ে যেত। মনে আছে ৩২ ও বাবা জর্দা দেওয়া পান ভারত থেকে এনে খেতে দিতেন রাজ্জাক চাচা। আর ভারতের লোকজন আমাদের ইকোনো ও নাবিস্কো গ্লুকোজ বিস্কুট পছন্দ করতো। তাই বাঁশের বদলে তাদেরকে এগুলো দেওয়া হতো। অনেক সময় বিএসএফও আবদার জানাতো।

আজ প্রায় ৯ বছর কাস্টম ঘাটে আগের মতো বসা হয়নি। তাতে কি! স্মৃতিগুলো এখনও তরতাজা।    

লেখক: সংবাদকর্মী

আরও পড়ুনঃ

Leave a Comment